পাবনার আমিনপুর থানার এক বসতবাড়ি থেকে অবৈধভাবে মজুত করা ৯৯ বস্তা ডাই অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ড্যাপ)সার উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (২১ অক্টোবর) আমিনপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, গোপন খবর পেয়ে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মধ্যরাতে অভিযান চালিয়ে আমিনপুর থানার এক বসতবাড়ি থেকে ৯৯ বস্তা সার পাই আমরা। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ইউএনও ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। যেহেতু সারের বিষয়টিতে সরাসরি আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ কৃষি বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনের হাতে, তাই বিষয়টি তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, সম্প্রতি অতি মুনাফালোভী একটি অসাধু চক্র বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির উদ্দেশ্যে বিভিন্ন স্থানে সার মজুত করছিল। এরই ধারাবাহিকতায় আমিনপুর থানার আহম্মদপুর ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামের আকবর শেখের বাড়িতে বিপুল পরিমাণ সার মজুতের খবর পায় পুলিশ। মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম বোয়ালিয়া গ্রামে আকবর শেখের ঘরে অভিযান চালায়। পরে উক্ত ঘর থেকে ৯৯ বস্তা ড্যাপ সার জব্দ করা হয়।
ঘটনাস্থলে সারের পরিমাণ ও উপস্থিতি অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় পুলিশ বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগকে অবহিত করে। পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী স্থানীয় ইউপি সদস্য জহুরুল ইসলাম জিন্নাহর জিম্মায় সারগুলো সাময়িকভাবে রাখা হয়।
জিম্মাদার ইউপি সদস্য জহুরুল ইসলাম জিন্নাহ জানান, আকবর শেখের পরিবার দাবি করেছে চাষাবাদের জন্য তারা বাইরের এলাকা থেকে এই সার এনেছেন। তবে সার ক্রয়ের কোনো রসিদ তারা দেখাতে পারেননি। বর্তমান সংকটকালে সাধারণ কৃষকরা যখন এক বস্তা সার পান না, তখন একটি বাড়িতে একশো বস্তা সার আবাদের উদ্দেশ্যে রাখা কতটা যুক্তিসঙ্গত তা প্রশ্নবিদ্ধ।
সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সুজানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মীর রাশেদুজ্জামান বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করছি। গৃহস্থারিতে এত বিপুল পরিমাণ সার মজুত রাখা যায় কি না এবং তা অবৈধ মজুতদারি আইন লঙ্ঘন করে কি না-তা গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনহত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
.jpg)
