ফরিদপুর (পাবনা)প্রতিনিধিঃ পাবনার ফরিদপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বনওয়ারীনগর সরকারি সি.বি.পি. উচ্চ বিদ্যালয়ের কক্ষ দখল করে বসবাসের অভিযোগ উঠেছে (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষক আবু ইউসুফ হেলালীর বিরুদ্ধে। শুধু কক্ষ দখল করে বসবাসই নয়, কক্ষের ফার্নিচার, আলমিরা, ফ্রিজ, গ্যাসের চুলাসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ও সরঞ্জাম রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আরও গুরুতর অভিযোগ—এসব সামগ্রীর সবকিছু প্রতিষ্ঠানটির অর্থে কেনা হয়েছে।
বিদ্যালয়ের দোতালায় পদার্থ ও রসায়ন ল্যাব রুমটি দখল করে প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) আবাসস্থল বানিয়েছে। স্কুলের রুমটি ব্যবহারের ফলে ছাত্রছাত্রীরা দীর্ঘদিন বিজ্ঞান বিষয়ের ব্যবহারিক ক্লাস করতে পারছেন না।কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে কথা বলে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষক বলেন ছাত্র-ছাত্রীদের তুলনায় বিদ্যালয়ে রুমের সংখ্যা কম। তাছাড়া স্কুল ভবনের কক্ষ প্রধান শিক্ষক দখলের ফলে রুমের সংকট আরো তীব্র হয়েছে। শুধু রুম দখল করে বসবাস নয়, তার বিরুদ্ধে রয়েছে আরো অনেক অভিযোগ। নানান অজুহাতে নিয়মিত বিদ্যালয়ে না আসা। হাজিরা খাতায় নিয়মিত উপস্থিতির স্বাক্ষর না করা। গত আগস্ট মাসে স্কুল হাজীরা খাতায় তিনি এখন পর্যন্ত স্বাক্ষর করেননি।
বনওয়ারী নগর সরকারি সিবিপি উচ্চ বিদ্যালয় এর সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ইমামা বানিন বলেন, স্কুলের কক্ষে বসবাস করার অনুমতি আমার কাছ থেকে নেননি। আমি আপনাদের কাছ থেকে এই বিষয়টি প্রথম শুনলাম। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আতিকুজ্জামান বলেন, বিদ্যালয়ের ভবন দখল করে বসবাস সম্পূর্ণ অবৈধ। এমনটি হয়ে থাকলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, এসব সামগ্রী যদি বিদ্যালয়ের অর্থে কেনা হয়ে থাকে, তাহলে সেগুলো কেন ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের জন্য রাখা হয়েছে? ক্রয়ের ক্ষেত্রে কার অনুমোদন নেওয়া হয়েছে? এসব সামগ্রী বিদ্যালয়ের স্টক রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কি না? কেনাকাটার বিল-ভাউচার ও রেজুলেশন কোথায়?
অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে বিদ্যালয়ে কয়েকজন সাংবাদিক প্রবেশ করেন। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকায় মোবাইল ফোনে তার সাথে যোগাযোগ করা হয়। তিনি বিদ্যালয়ে কেন আসেননি, কি কাজে পাবনাতে অবস্থান করছে, ছুটিতে থাকলে সভাপতি মহোদয়কে জানানোর প্রয়োজন আছে কিনা, এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি সদউত্তর দিতে পারেননি।
এখানেই দেখা দিয়েছে বড় প্রশ্ন—বিদ্যালয়ের কক্ষ যদি আবাসিক কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকে এবং প্রতিষ্ঠানের অর্থে ফ্রিজ, গ্যাসের চুলা, আলমিরা ও ফার্নিচার কেনা হয়ে থাকে, তাহলে এসবের অনুমোদন কোথা থেকে এসেছে।
স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। তারা বলেন, তদন্তের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের কক্ষ ব্যবহারের বৈধতা, প্রতিষ্ঠানের অর্থে কেনাকাটার হিসাব এবং কেনা সামগ্রীর প্রকৃত ব্যবহার, নিয়মিত হাজিরা সহ সবকিছুই পরিষ্কার হওয়া সম্ভব।অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
.jpg)
