ভাঙ্গুড়া প্রতিনিধিঃ পাবনার ভাঙ্গুড়ায় বসত বাড়িতে জেলি, তেল ও গ্লুকোজ মিশিয়ে নকল দুধ তৈরির কারখানায় উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ উপকরণ ও প্রস্তুত করা দুধ জব্দ করেছে ।
অভিযানে ৩৬ ড্রাম জেলি, যার ওজন প্রায় ২ হাজার ৭০০ কেজি, দুধ তৈরিতে ব্যবহৃত ২০০ লিটার তেল এবং ৩২০ লিটার প্রস্তুত করা ভেজাল দুধ জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা এসব উপকরণ ও দুধ ঘটনাস্থলেই ধ্বংস করা হয়।
উদ্ধার করা মালামালের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৮ লাখ টাকা। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) উপজেলার ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের কৈডাঙ্গা নতুনপাড়া গ্রামে আবুল বাশারের নিজ বাড়িতে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
ইউএনও সুরাইয়া মমতাজের নেতৃত্বে পাবনা এনএসআই ও উপজেলা প্রশাসন যৌথভাবে এ অভিযান চালায়।
এ ঘটনায় কারখানার মালিক মো. আবুল বাশারকে এক বছরের কারাদণ্ড ও ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে তাঁর এক সহযোগী মো. সবুজকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানান, আবুল বাশার দীর্ঘদিন ধরে নিজ বাড়িতে নকল দুধ তৈরি করে বাজারজাত করে আসছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাঁর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ভেজাল দুধ তৈরির এসব উপকরণ ও প্রস্তুত করা দুধের সন্ধান পাওয়া যায়। অভিযুক্ত আবুল বাশার কৈডাঙ্গা নতুনপাড়া গ্রামের মৃত আবু তালেব প্রামাণিকের ছেলে। তাঁর সহযোগী মো. সবুজ একই গ্রামের মো. হাবিল প্রামাণিকের ছেলে। এর আগেও কয়েকবার অভিযুক্ত আবুল বাসারের ভেজাল দুধ তৈরির অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা করেছিলেন। ২০২৫ সালের তৎকালীন সহকারি কমিশনার (ভুমি) মিজানুর রহমান তাকে নকল দুধ তৈরির অপরাধে মাত্র ২০ হাজার টাকা অর্থদন্ডাদেশ অরোপ করেছিলেন। এর পর তিনি নকল দুধ তৈরি করণ থেকে তিনি থেমে থাকেন নি।
শুক্রবারের অভিযান চালিয়ে ৩৬ ড্রাম জেলি, ২০০ লিটার তেল ও ৩২০ লিটার প্রস্তুত করা ভেজাল দুধ জব্দ করা হয়। পরে সেগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। অভিযান শেষে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আবুল বাশারকে ভ্রাম্যমাণ আদালত এক বছরের কারাদণ্ড ও ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ডাদেশ প্রদান করেন। অন্যদিকে তাঁর সহযোগী মো. সবুজকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। জরিমানা অনাদায়ে তাঁকে আরও এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অভিযানকালে ভাঙ্গুড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত জাহান ও স্যানেটারী ইন্সেপেক্টটর নুরুল ইসলাম, ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশ উপস্থিত ছিলেন।
এ ব্যপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার মোছাঃ হালিমা খানম জানান, দীর্ঘদিন জেলি ও গ্লুকোজ দিয়ে তৈরি দুধ পান করলে ক্যান্সার ও হার্টের ঝুকিসহ মারাত্বক জাটিল রোগে আক্রান্ত হতে পারেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া মমতাজ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মো. আবুল বাশার ভেজাল দুধ তৈরির ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন এমন অভিযোগ ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তার সত্যতা পাওয়া যায়। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে তাদেরকে একজনকে এক বছরের কারাদণ্ড ও ২ লাখ টাকা ও মো. সবুজকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ভেজাল খাদ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকারীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান আগামীতেও অব্যহত থাকবে।
.jpg)
