ভাঙ্গুড়া প্রতিনিধিঃ পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ১ লক্ষ ৫০ হাজার ইট বিক্রয়ের চুক্তি করে সোয়া ৭ লক্ষ টাকা নিয়ে প্রায় ৬ বছর পরেও ইট না দেওয়ায় মেসার্স পদ্ম এন্টার প্রাইজের স্বত্বাধিকারী ৫ পার্টানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন খুরশিদা পারভীন দীনা নামক এক ব্যক্তি।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ভাঙ্গুড়া থানায় এই প্রতারণার মামলা দায়ের করেন তিনি। মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ৫ আসামীর মধ্যে লিটন হোসেন নামের একজনকে আটক করেছেন। পুলিশ বলছেন, বাকী আসামীদের আটকের চেষ্টা চলছে। অভিযোগ রয়েছে, ইট বিক্রয়ের নামে তারা এলাকার অনেক নিরীহ লোকের নিকট থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে ইটভাটা বন্ধ করে এলাকাতেই ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন।
মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার অষ্টমনিষা ইউনিয়নের শাহানগর এলাকায় কয়েক বছর পূর্বে উত্তর মেন্দা এলাকার আহাম উদ্দীনের ছেলে মোঃ আলমগীর হোসেন (৪৫), মসজিদ পাড়ার মৃত ইন্তাজ প্রাং এর ছেলে মোঃ লিটন হোসেন (৪৬), ইন্তাজ প্রাং, মাহাফজুর রহমান হেলু (৫৫), কুমড়াডাঙ্গা এলাকার মোঃ আমির এর ছেলে মোঃ ইকরামুল হক (৫০), দক্ষিণ মেন্দা পালপাড়ার শ্রী মৃত মঙ্গলা সূত্রধর এর ছেলে মিন্টু কুমার দে (৪৫), মিলে পদ্মা এন্টার প্রাইজ নামে একটি ইটভাটা গড়ে তোলেন। সেখানে অল্পদিনের মধ্যে অগ্রিম ইটবিক্রয়ের নামে সাধারণ মানুষের নিকট থেকে হাতিয়ে নেন লাখ লাখ টাকা। এভাবে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে কয়েক বছরের মধ্যেই তারা ভাটা বন্ধ করে অন্যান্য ব্যবসায় ব্যক্তিগত ভাবে চলে যান। এর পর থেকেই মুলত সাধারণ ইট ক্রেতা ইট না পেয়ে তাদের পাওনা টাকার জন্য বিভিন্ন দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। এই ক্রেতাদের একজন খুরশিদা পারভীন দীনা । তিনি গত মঙ্গলবার তার পাওনা টাকা দীর্ঘদিন না পেয়ে অবশেষে তিনি মামলা দায়ে করেন।
মামলা এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভাঙ্গুড়া থানাধীন অষ্টমনিষা এলাকায় মেসার্স পদ্মা এন্টারপ্রাইজ (পি.বি.ই ব্রিকস্) নামে একটি ইটভাটা রয়েছে। এমতাবস্থায় গত ২৬/১০/২০২১ খ্রি. বিকাল অনুমান সাড়ে ৫টার দিকে ভাঙ্গুড়া থানাধীন অষ্টমনিষা এলাকায় মেসার্স পদ্মা এন্টারপ্রাইজ (পি,বি,ই ব্রিকস্) নামক ইট ভাটার ভিতরে আসামীদের অফিস কক্ষের মধ্যে অগ্রিম-১,৫০,০০০ (এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টি ইট ক্রয়ের জন্য বিবাদীগণকে মোট-৭,২৫,০০০/- (সাত লক্ষ পঁচিশ হাজার) টাকা প্রদান করি। যা ১নং বিবাদী টাকা গুনে বুঝে নিয়ে তাকে একটি মানি রশিদ প্রদান করে। ইট ক্রয়ের সময় বিবাদীগণের সাথে তার মৌখিকভাবে এই মর্মে চুক্তি হয় যে, তিনি যখন উক্ত ইটগুলো নিতে চাইবো, তখন বিবাদীগণ ক্রয়কৃত ইট বুঝিয়ে দিতে বাধ্য থাকবে। পরবর্তীতে কিছুদিন পরে তিনি বিবাদীগণের উক্ত ইটভাটায় গিয়ে ক্রয়কৃত ইট বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য বললে বিবাদীগণ ইট দিচ্ছি, দেবো বলে বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে। বিবাদীগণের নিকট হতে ইট বুঝিয়ে না পেয়ে একপর্যায়ে বাদীর প্রদানকৃত ৭,২৫,০০০/- (সাত লক্ষ পঁচিশ হাজার) টাকা ফেরত চাইলে বিবাদীগণ টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিয়েও দীর্ঘদিন যাবৎ কালক্ষেপণ করতে থাকে।
এমতাবস্থায় গত ২০/০৮/২০২৬ খ্রি. বিকাল অনুমান-০৫.০০ ঘটিকার সময় ভাঙ্গুড়া থানাধীন বকুলতলা মোড়ে বিবাদীগণকে দেখতে পেয়ে আমি তাদের নিকট ক্রয়কৃত ইট অথবা প্রদানকৃত ৭,২৫,০০০/- (সাত লক্ষ পঁচিশ হাজার) টাকা ফেরত চাইলে বিবাদীগণ কোনো ইট বা টাকা ফেরত দেবে না মর্মে এককালীন অস্বীকার করে। পরবর্তীতে বাদী বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে অবহিত করে তাদের মাধ্যমে আপোষ-মীমাংসার চেষ্টা করলেও বিবাদীগণ কোনো প্রকার সমাধান না করে তাদের সিদ্ধান্তে অটল থাকে। বিবাদীগণ পরস্পর যোগসাজশে বাদীর নিকট হতে অগ্রিম-১,৫০,০০০ (এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টি ইট ক্রয়ের মূল্য বাবদ ৭,২৫,০০০/- (সাত লক্ষ পঁচিশ হাজার) টাকা গ্রহণ করে চুক্তি অনুযায়ী তাকে ইট সরবরাহ না করে এবং পরবর্তীতে প্রদত্ত টাকা ফেরত না দিয়ে ব্যবসায়িক সম্পর্কের বিশ্বাস ভঙ্গ ও প্রতারণার মাধ্যমে উক্ত টাকা আত্মসাৎ করেছে ।
ঘটনার বিষয়ে জানাতে মোঃ আলমগীর হোসেন মোবাইল ফোনে জানান, পদ্মা এন্টারপ্রাইজের এমডি থাকার কারণে মাহাফুজুর রহমান হেলু ১০/১২ বছরে প্রায় ২ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে ঢাকায় পাড়ি জমিয়েছেন এখন আমরা পরেছি বিপদে। তিনি আরো বলেন, তিনি টাকা পাবেন এটা সঠিক তবে অনেক আগেই তিনি ও ইকরামুল হক তাদের অংশের টাকা পরিশোধ করেছেন ব্যাংক চেকের মাধ্যমে তার ডকুমেন্ট আছে। বাকীদের অংশের টাকা তারা পরিশোধ করেন নি।
ভাঙ্গুড়া থানার ওসি সাকিউল আযম বলেন, প্রতারণার অভিযোগের থানায় ৪০৬/৪২০/৩৪ ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। একজনকে আটক করা হয়েছে। অন্যদেরও আটক করার চেষ্টা চলছে।
.jpg)
