পাবনার ফরিদপুর উপজেলায় একটি বেসরকারি ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারের পর একে একে ১২ জন রোগীর ক্ষতস্থানে যক্ষা সংক্রমণের কারণ জানতে কাজ শুরু করেছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) একটি প্রতিনিধিদল। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) হাসপাতালটিতে ব্যবহৃত অস্ত্রোপচারের যন্ত্রপাতি পরীক্ষা করবেন তারা।
সাত সদস্যের এই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির পরিচালক মো. শাহরিয়ার সাজ্জাদ। গতকাল রোববার প্রথম দিনে তারা যক্ষ্মায় আক্রান্ত ১২ জনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁদের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করে। প্রতিনিধিদলের প্রধান মো. শাহরিয়ার সাজ্জাদ জানান, প্রথম দিনে তাঁরা ক্ষতস্থানে যক্ষ্মায় আক্রান্ত ১২ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠিয়েছেন। আল-মদিনা ল্যাব অ্যান্ড হসপিটালের অস্ত্রোপচার কক্ষ (ওটি) ও ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সংক্রমণের মূল উৎস চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। হাসপাতালটিতে অস্ত্রোপচার হওয়া অন্য রোগীদেরও খোঁজখবর নেবেন তাঁরা। নমুনা পরীক্ষার পাশাপাশি মাঠপর্যায়েও তাঁদের পর্যবেক্ষণ চলবে।
শাহরিয়ার সাজ্জাদ আরো বলেন, হঠাৎ যক্ষ্মা ছড়ানোর কারণ ও এর তীব্রতা খতিয়ে দেখতেই এই অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। সবদিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সংক্রমণের মূল উৎস চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। সব ল্যাব পরীক্ষা শেষে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, পাবনার ফরিদপুর উপজেলার আল-মদিনা ল্যাব অ্যান্ড হসপিটালে অস্ত্রোপচারের পর গত আগস্টে ১২ জনের ক্ষতস্থানে যক্ষ্মা শনাক্ত হয়। তাঁদের মধ্যে ১১ জনই প্রসূতি ছিলেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর গত ২৪ আগস্ট উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ হাসপাতালটির অস্ত্রোপচার কক্ষ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় এবং একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। একই সঙ্গে বিষয়টি আইইডিসিআরকে জানায়।
.jpg)
