পাবনায় চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলিকে (১০) ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় ফুঁসে উঠেছে সর্বস্তরের মানুষ। আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবিতে জেলা জজকোর্ট ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন নিহতের স্বজন, সহপাঠী ও ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে পাবনা জজকোর্ট প্রাঙ্গণে জড়ো হন হাজারো মানুষ। সেখান থেকে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে ঘেরাও করেন। এ সময় 'কলি হত্যার বিচার চাই', 'হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই' স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের বিচারে যেন কোনোভাবেই দীর্ঘসূত্রতা তৈরি না হয়। তারা আগামী সাত দিনের মধ্যে মামলার সঠিক তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল এবং দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আলটিমেটাম দেন।
সমাবেশে পোস্টমর্টেম প্রতিবেদন নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করে বক্তারা বলেন, কোনো তথ্য গোপন বা অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্টদের কঠোর জবাবদিহির মুখোমুখি করা হবে। একই সঙ্গে আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী আদালতে না দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তারা হুঁশিয়ারি দেন, কেউ আসামিপক্ষে দাঁড়ালে তাকে সামাজিকভাবে বয়কট করা হবে।
নিহত কলির বাবা কামাল হোসেন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শামসুল আলম ও স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুর রউফ সোহেলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিক্ষোভে বক্তব্য রাখেন।
এ বিষয়ে পাবনার জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, "এটি একটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ঘটনা। অপরাধীদের সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।"
উল্লেখ্য, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় শিশু কামরুন্নাহার কলি। অনুসন্ধানের সাত দিন পর ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে কুলোনিয়া গ্রামের একটি ডোবা থেকে তার বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার তদন্তে জানা যায়, প্রতিবেশী মোস্তফা প্রামাণিকের মুদি দোকানের পেছনের একটি কক্ষে শিশুটিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়। পরে ঘটনা আড়াল করতে অভিযুক্তরাই আবার উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়ার ভান করে।
এ ঘটনায় পুলিশ আসামি মোস্তফা প্রামাণিক ও তার ভাড়াটিয়া ইয়াসিন আলীকে গ্রেপ্তার করে ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ জনতা আসামি মোস্তফার বহুতল ভবনে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে।
.jpg)
